টলিউড আর তৃণমূল, অনেকদিন থেকেই এই দুই নাম যেন প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল। বড় পর্দার বহু জনপ্রিয় মুখ একে একে রাজনীতির ময়দানে নাম লিখিয়েছিলেন। দেব, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, এমন বহু তারকা প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress)এর পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। ফলে একটা সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই গিয়েছিল যে, টলিউডের বড় অংশই তৃণমূলের সঙ্গে একাত্ম। সেই ধারাবাহিকতাতেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে নতুন সংযোজন হিসেবে সামনে আসেন টলিউডের ‘কুইন’ কোয়েল মল্লিক।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে কোয়েল মল্লিক আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে পা রাখেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, যা অনেকের কাছেই চমক ছিল। অভিনয়ের জগত থেকে সরাসরি সংসদীয় রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জানান, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাঁকে এই পথে এনেছে। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এবং ‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজকে সঙ্গে নিয়েই তিনি নতুন যাত্রা শুরু করেন।
এরপর ৬ এপ্রিল ২০২৬-এ সাংসদ হিসেবে শপথ নেন কোয়েল। বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল তাঁর শপথ গ্রহণের মুহূর্ত, লাল পাড় সাদা শাড়িতে, নিজের আসল নাম ‘রুক্মিণী মল্লিক’ ব্যবহার করে বাংলায় শপথ নেওয়া যেন এক আলাদা বার্তা বহন করেছিল। টলিউডের গ্ল্যামার জগৎ থেকে বেরিয়ে একেবারে সাংসদ হিসেবে তাঁর অভিষেককে অনেকেই নেতিবাচক হিসেবেই দেখেছিলেন।
তবে চিত্রটা পুরো বদলে যায় ৪ মে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর। রাজ্যে বিপুল জয় পায় বিজেপি, আর তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কোয়েল মল্লিককে ঘিরে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অনেকেই দাবি করতে শুরু করেন, তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলের ‘ভাগ্য খারাপ’ হতে শুরু করেছে। কেউ কেউ তাঁকে ‘আনলাকি’ তকমাও দিতে শুরু করেন। আগে যাঁরা তাঁকে ‘বাংলার লক্ষ্মী মেয়ে’ বলতেন, তাঁদের একাংশের গলাতেই এবার শোনা যাচ্ছে কটাক্ষের সুর।
আরও পড়ুনঃ জনগণ বা ইভিএম নয়, বাংলায় পদ্ম ফুটিয়েছে মেসি! বিধানসভায় ‘গো-হারা’ তৃণমূল! অরূপ বিশ্বাসের হারের পর লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়া চেয়ে, ভাইরাল অরিত্র দত্ত বণিকের পোস্ট!
নেটপাড়ার এই প্রতিক্রিয়া অবশ্য নতুন নয়, কিন্তু কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রে তা যেন আরও তীব্র আকার নিয়েছে। একদিকে তাঁর ভক্তদের একটা সময় যাকে সমর্থন করতেন, অন্যদিকে সেই সমার্থকদের কটাক্ষ যেন আজ ক্রমেই বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, একজন অভিনেত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কি সত্যিই কোনও দলের জয়-পরাজয়ের জন্য দায়ী হতে পারে? নাকি এ সবই সোশ্যাল মিডিয়ার আবেগ আর অতিরঞ্জনের ফল? এই বিতর্কের মধ্যেই কোয়েলের রাজনৈতিক পথচলা এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।






